নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ তো তারাই করেছে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেধক
  • প্রকাশিত : সোমবার, ১১ মার্চ, ২০১৯
  • ২৮৬ দেখেছেন
সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ তো তারাই করেছে। প্রতিটি নির্বাচন নিয়ে তারা খেলা খেলেছে। দশটা হুন্ডা, ২০টা গুণ্ডা- নির্বাচন ঠাণ্ডা। আগে এটাই ছিল নির্বাচনের পরিবেশ। সে ধরনের কোনো ঘটনা একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ঘটেনি।’

সোমবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব এবং প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে এসেছিল। কিন্তু পছন্দমতো সংখ্যায় আসন পায়নি। তবে সবার উদ্দেশ্যে আমি জানাতে চাই যে, ২০০৮ সালের নির্বাচনে শতকরা ৮৪ ভাগ ভোট পড়েছিল। ২০১৮ সালে পড়েছিল ৮০ ভাগ। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত মাত্র ২৮টি আসন পেয়েছিল। এবারের নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট যাকে (ড. কামাল) প্রধান করেছে তিনি নির্বাচন করেননি। বিএনপির প্রধান দুই জনের মধ্যে একজন এতিমের টাকা আত্মসাতের কারণে কারাগারে, আরেকজন খুন-দুর্নীতির দণ্ডিত পলাতক আসামি। যে দলের চেয়ারপারসন একজন কারাগারে, অন্যজন দেশান্তরী- জনগণ কী দেখে তাদের ভোট দেবে? নির্বাচনের সময় জনগণকে তারা দেখাতে পারেনি নির্বাচিত হলে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, কে দেশ চালাবেন। এ কারণে জনগণ আওয়ামী লীগকে বেছে নিয়েছে, তাদের ভোট দেয়নি।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের সময় বিএনপি মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে। কোনো কোনো আসনে নির্বাচনের দু’দিন আগেও তারা মনোনয়ন পরিবর্তন করেছে। বিএনপির যেসব ভোটব্যাংক, তারাও তো ভোট দিতে পারেননি। কারণ তারা দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন।’

শেখ হাসিনা প্রশ্ন রেখে বলেন, ’৭৫-পরবর্তী নির্বাচন কিভাবে হয়েছে? খুনি জিয়াউর রহমান একাধারে সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি হলেন।

বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংসদে আসার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। জনগণের ভোটের প্রতি সম্মান জানিয়ে সংসদে এসে যা বলার কথা বলুন, আমরা কোনো বাধা দেব না।’

সুলতান মোহাম্মদ মনসুরকে শপথ নিয়ে সংসদে আসার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যদের অনেকে সেনাপ্রিয় বলেন। দেশের এমন কিছু লোক আছে দেশে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি এলেই তাদের সুবিধা হয়। তারা কোনো উন্নয়ন চোখে দেখে না। তবে তারা কে কি বলল তাতে কেয়ার করি না, আমি কেয়ার করি দেশের জনগণকে। তাদের মতো অত জ্ঞানী-গুণী না হলেও দেশকে আমরা উন্নয়ন করতে পারি তা প্রমাণ করেছি। এখন ভিক্ষা দেয়ার কোনো লোক পাওয়া যায় না।’

শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সড়কে হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেলে যাত্রী হওয়ার ঘটনায় একজন প্রতিমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো নিয়ে কথা বলার সময় সম্প্রতি জুনাইদ আহমেদ পলকের মাথায় হেলমেট ছাড়া বাইকে চড়ে সচিবালয়ে যাওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে সাংবাদিকরা ওবায়দুল কাদেরকে প্রশ্ন করেন।

তিনি বলেন, ওই প্রতিমন্ত্রী সড়কে হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেলে যাত্রী হওয়ার ঘটনায় আমার কাছে ভুল স্বীকার করেছেন।

‘তাকে আমি এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম। পরে তিনি এ ঘটনায় ভুল বুঝতে পেরে দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটবে না বলে আমাকে কথা দিয়েছেন।’

নতুন সরকারে শপথ নেয়ার পর দিন মঙ্গলবার দুপুরে আগারগাঁওয়ের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগে দ্রুত যেতে পলক মোটরবাইকে সওয়ার হয়েছিলেন।

মোটরবাইকে চেপে অফিসযাত্রার ছবি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের টাইমলাইনেও পোস্ট করেন পলক। তাতে তাকে হেলমেট ছাড়া অবস্থায় দেখে সমালোচনা করেন অনেকে।

আইনপ্রণেতা হিসেবে হেলমেট না পড়ে মোটরযান আইন ভাঙায় ফেসবুকে পলকের পোস্টেই সমালোচনা করেন অনেকে।

এ প্রসঙ্গে পলক পরে সাংবাদিকদের বলেন, তাড়াহুড়ো করে যাওয়ার জন্য আমি যে বাইকের সাহায্য নিয়েছি, তার কাছে কোনো বাড়তি হেলমেট ছিল না। আর ওটা রাইড শেয়ারিংয়ের বাইকও ছিল না, ব্যক্তিগত বাইক ছিল।

হেলমেট ছাড়া বাইকে সওয়ার, পলকের দুঃখ প্রকাশ